বিসিএস প্রস্তুতি

কখন হতে পারে ৩৯ ও ৪০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা? | ৩৯ ও ৪০ তম বিসিএস এর সম্ভাব্য সময়সূচি

প্রদীপ কুমার রায়ঃ গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৩৮ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এখন আগামী বিসিএস পিপাসু শিক্ষার্থীদের মনে শুধু একটাই প্রশ্ন কখন হবে ৩৯ তম বা ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষা?? প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরা ইতিমধ্যেই জানো যে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন ও ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর সেজন্যই ৩৯ ও ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনেকে এখনি ইন্টারনেটে ৩৯ তম বিসিএস প্রিলিঃ পরীক্ষার সার্কুলার খোজা শুরু করে দিয়েছেন। যাইহোক, আজকে আমি বিগত বছরের সকল পরীক্ষার সময়কাল উল্লেখপুর্বক, ৩৯ ও ৪০ তম বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা কখন হতে পারে সেটার একটা আংশিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। তো চলুন বিগত বছরের বিসিএস প্রিলি: পরীক্ষা গুলো কখন এবং কত সময় ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেগুলো জেনে নিই।

৩৯ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখঃ- ৩ আগস্ট ৩৯তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ৮ থেকে ১৩ আগস্ট ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে

নিচের চিত্রে ২০ থেকে ৩৮ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময়সূচী এবং দুটি পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান দেখানো হয়েছে।

39th & 40th priliminary exam circular

চিত্রে: বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা গুলো লাল কালারে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।

আমরা উপরের চিত্রে দেখতে পাচ্ছি যে ২২ তম বিসিএস প্রিলির পরে ২৩ তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা হয়েছিল মাত্র ১ মাস ২১ দিনের ব্যবধানে। অনুরুপভাবে ২৬ তম বিশেষ বিসিএস হয়েছে ৩ মাস ২৮ দিনে এবং ৩২ তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা হয়েছে ৯ মাস ১৩ দিনের ব্যবধানে।

এখান থেকে আমরা এ ধারণা করতে পারি যে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষাগুলো অল্প সময় বা বেশী সময়ের ব্যবধানে ও হতে পারে।

বিসিএস সহ সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ও সফল ব্যাক্তিদের বিভিন্ন পরামর্শ পেতে এখনই Join করুন আমাদের Official ফেসবুক Group “বিসিএস বুলেটিন” এ।

কিন্তু এখন কথা হলো যে ৩৯ তম বিসিএস তাহলে কখন হতে পারে?

প্রথম আলোর ০২ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী চলতি মাসেই ৩৯তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) একটি সূত্র। ওই সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি ফলাফল তৈরির কাজ শুরু হবে। ফেব্রুয়ারিতে এই বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ হতে পারে। এই বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনের কিছু সংশোধন করতে হবে। তাই তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘৩৯তম বিসিএসের বিষয়টি সচিব কমিটিতে গিয়েছে। সেখান থেকে হয়তো দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজ আমাদের কাছে আসবে। সেটি হলেই আমরা এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারব।’ এই মাসের মধ্যেই হয়তো ৩৯তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে বলে জানান তিনি।

কি? অবাক হচ্ছেন? খেয়াল করে দেখুন ২৩ তম বিশেষ বিসিএস হয়েছে মাত্র ১ মাস ২১ দিনের ব্যবধানে। এই হিসেব আর প্রথম আলোর সূত্রের উপর নির্ভর করে আমরা বলতেই পারি যে ৩৯ তম বিসিএস মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই হতে চলেছে।

তাছাড়া আমরা বলতেই পারি যে বর্তমান পিএসসি কর্তৃপক্ষ অনেকটা দায়িত্ব সম্পন্ন। পিএসসি ৩৮ ও ৩৯তম বিসিএসের পাশাপাশি ৩৬তম বিসিএসের নন–ক্যাডারদের নিয়োগ ও ৩৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কাজ করছে । সব মিলে চারটি বিসিএস নিয়ে কাজ করছে পিএসসি। তাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব।

৪০ তম বিসিএস প্রিলিঃ পরীক্ষার সার্কুলার কবে দিবে বা পরীক্ষা কবে হতে পারে??

যেহেতু, ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষাটি বিশেষ পরীক্ষা হতে চলেছে সে হিসেবে আমরা যদি বিগত বছরগুলোর বিশেষ পরীক্ষার পরের পরীক্ষা গুলো খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাই যে, ২৩ তম বিশেষ বিসিএস ও ২৪তম বিসিএস এর মধ্যে ব্যবধান ছিল ১ বছর ১১ মাস ৫ দিন ( এই পরীক্ষাটি বাতিল হয়ে পরে পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল)। ঠিক একইভাবে ২৬ তম বিশেষ বিসিএস ও ২৭তম বিসিএস এর মধ্যে ব্যবধান ছিল ১০ মাস ১৮ দিন । কিন্তু ৩২তম বিশেষ বিসিএস ও ৩৩ তম বিসিএস এর মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ২ মাস ২৩ দিন। উপরের তিনটি পরীক্ষার পরিসংখ্যান থেকে আমরা পাই যে, তিনটি পরীক্ষার মধ্যে দুটি পরীক্ষাই বেশী সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আরেকটি বিষয় আমাদের জেনে রাখা দরকার যে সাধারণত বিসিএস প্রিলিঃ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৫, ৬ বা ৭ মাস (ব্যতিক্রম ও হয়) পরে মূল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এখন যদি জানুয়ারীতেই ৩৯ তম বিসিএস এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় তাহলে মূল পরীক্ষা ২০১৮ এর মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে।

একটু খেয়াল করে দেখুন আমি উপরে উল্লেখ করেছি যে পিএসসি কর্তৃপক্ষ ৩৯ তম বিসিএস সহ বর্তমানে ৪ টি বিসিএস নিয়ে কাজ করতেছে। এমতাবস্থায়, ২০১৮ সালের মধ্যেই ৪০ তম বিসিএস প্রিলিঃ পরীক্ষা নেওয়ার ঝুকি পিএসসি কর্তৃপক্ষ নিতে চাইবে কী? তাছাড়া, আগের পরীক্ষাগুলোর ফলাফল প্রকাশ, লিখিত পরীক্ষা এবং ভাইবা নেওয়ার জন্যও তো অনেকটা সময়ের প্রয়োজন।

তবে লক্ষ্য করার মতো আরেকটি বিষয় হলো ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের কথা ভেবে পিএসসি কর্তৃপক্ষ বিশেষ পদক্ষেপের মাধ্যমে ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষাটি ২০১৮ সালের মধ্যে নিতেও পারে।

উপরের আলোচনায় আমি অতীত পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এমতাবস্থায়, ২০১৮ সালে একাধিক পরীক্ষার চাপ ও ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পিএসসি কর্তৃপক্ষ কতটা যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়!!

যাইহোক, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলবো, পরীক্ষা কখন হবে সেটা নিয়ে তোমরা দুশ্চিন্তা করো না । আমি খেয়াল করেছি ৩৮ তম বিসিএস প্রিলিঃ পরীক্ষার তারিখ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে অনেকেই ভালভাবে প্রস্ততি নিতে পারেনি। ফলে তাদের পরীক্ষাও ভাল হয়নি । তাই তোমরা এরকম দুশ্চিন্তা না করে তোমাদের প্রস্তুতি ভালভাবে সম্পন্ন করো।

আমি পরবর্তী লেখাতে বিসিএস প্রিলিঃ ও লিখিত পরীক্ষার  জন্য কি কি বই পড়তে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবো। সবশেষে, সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করে আজকে এখানেই সমাপ্ত করলাম।

প্রদীপ কুমার রায়
৩১ তম বিসিএস
প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ
বৃন্দাবন সরকারি কলেজ

[ বিঃদ্রঃ উপরের উল্লেখিত সবগুলো মতামতই আমার একান্ত ব্যাক্তিগত। এই মতামতে কারো দ্বিমত থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ]

এরকম আরো গুরত্বপূর্ন সব পোস্ট সাথে সাথে পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে LIke দিয়ে রাখুন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + eight =

Back to top button